ট্রেনের ভিড় ভরা কামরায়ই প্রথম দেখা ওনার সঙ্গে। হ্যাঁ, একটু সিনেমা-সিনেমা ব্যাপার মনে হতে পারে।

আসলে আমরা সবাই একটি সুন্দর কল্পনা জগত বানিয়ে রাখি নিজেদের ঘিরে, ঠিক যেমন গল্পে হয়, সিনেমায় হয়, ঠিক সেই রকমই।

সে আমায় হঠাৎ মেসেজ করে বললো, "তা চোখে এত রাগ কিসের, হ্যাঁ?"

কিঞ্চিৎ অবাক আর খারাপ লাগা মিশিয়ে মনে একটু বাসা বেঁধে গেল। আর লাগবেই নাই বা কেনো সে রাগ দেখলো?

মনে হচ্ছে হাজার প্রজাপতি একসাথে ডানা বেঁধে উড়ছে আর ঠোঁটের হাসি যে বাঁধ মানছে না, তা কি নজর কারলো না? আর এত ভীতু, একটু কথা বলা গেলো না?

সব ভাবনা কিছুটা পাশে রেখে উত্তর দিলাম, "কোথায় রাগ?"

তারপর তার দিকে না চাইতেই নির্লজ্জ হয়ে ফিরে ফিরে দেখতে চাওয়া, কিছু ভালো লাগা ও ভালোবাসা মেশানো কথা, হ্যাঁ, অবশ্যই তা মেসেজের মাধ্যমেই। কারণ, কল্পনা জগতে বিরাজ করলেও আমরা বাস্তবে কেউই সাহসী নই।

বলতে বলতেই তার গন্তব্য চলে এলো। হ্যাঁ, ইচ্ছে হচ্ছিল বলতে, ঠিক ওই গানের মতো।

অভি না যাও ছোড় কার

কি দিল অভি ভারা নাহি।।

কিন্তু হঠাৎ থেমে যাওয়া প্রয়োজন। সময় নেওয়া হয়তো খুব প্রয়োজন, মনে কিছু সময় স্থগিত রাখা প্রয়োজন।

ভিড় ভরা কামরায় তাকে আবার শেষ বারের মতো দেখলাম, মন চাইছিল যেনো আবার দেখি, যেনো এই হঠাৎ দেখা ফিরে আসে।

ভাবলাম, পিছু ফিরে হয়তো দেখবে সে, কিন্তু না, ভিড়ে সে মিশে গেলো।

খারাপ লাগা হাওয়া গুলো হয়তো আবার জড়িয়ে নিলো তাদের সাথে আমাকে।

ট্রেন নিজের গতি আবার ধরলো, ফোনে একটা মেসেজ ঢুকলো 'স' শব্দে!

"দেখলে আমাকে?"

ট্রেনটা ওখানেই ক্রসিং নিচ্ছিলো আর সে দূরে ট্রেনের দিকে তাকিয়ে রইল ঠিক ওই চাতক পাখির মতো... আর সেই পাগল করা হাসি, সব মন খারাপের হাওয়া গুলো এক মুঠো আবীর ছিটিয়ে দিলো যেনো।